1. dssangbad1@gmail.com : dss :
  2. admin@news.eswadhinsangbad.com : admin :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আইন অমান্য করে ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ! - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ
ডেমরায় আবাসিক হোটেল থেকে অসামাজিক কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যু সুশীল সমাজের সঙ্গে সরকারকে যুক্ত থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ সরকারের উদ্দেশ্য নয় : আইনমন্ত্রী গলায় দড়ি দিলেন মা ছেলে-মেয়েকে বিষ খাইয়ে ঢাকা জেলার ধামরাই এলাকা হতে ৯৮০ গ্রাম হেরোইনসহ ০১ জন মাদক কারবারি’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪ আশুলিয়ায় চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা,গ্রেফতার-২ মুরাদনগর উপজেলার ২নং আকুবপুর ইউনিয়নের উদ্যোগে আওয়ামী লীগের ২ নেতার স্মরণ সভা  বাকেরগঞ্জে মহান শহীদদিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন লক্ষীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি জসিম সম্পাদক বিপ্লব অদ্বৈত মল্লবর্মণ সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ২য় অদ্বৈত গ্রন্থমেলা ২০২৪

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আইন অমান্য করে ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৬ জুন, ২০২২
  • ২১০ জন দেখেছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে চলছে ইটভাটা। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে অধিকাংশ ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ও ফসলি জমিতে স্থাপন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ ও ক্যামিকেল জাতীয় দ্রব্য। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ। আইন অমান্য করে দিনের পর দিন ইট ভাটার সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি নীতিমালা না মনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ ও কেমিক্যাল। কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃষি জমির মাটি। ফলে একদিকে নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে বন, অন্যদিকে উর্বরতা হারিয়ে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে জমি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটার ম্যানেজার জানান, সাধারণত মধ্যম সারির একটি ইটভাটায় বছরে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ ইট পোড়ানো হয়। আর প্রতি আট হাজার ইটের জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয় এক হাজার ঘনফুট মাটি। সেই মাটির জোগান আসে কৃষি জমি থেকে। এজন্য প্রতিটি আটভাটায় বছরে ৫ থেকে ৬ একর জমির উপরিভাগের মাটি ।

তিনি আরও জানান, ইট পোড়ানোর জন্য প্রতিটি ইটভাটায় দৈনিক গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ মণ কাঠ পোড়াতে হয়। কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে, বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগৃহীত কাঠ এসব ভাটায় জোগান দেওয়া হয়। গড়ে প্রতিটি গাছ থেকে সাত থেকে আট মণ কাঠ পাওয়া যায়।

লাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় আম, জাম, রেইন্ট্রি, কদম, জামরুল, কাঁঠাল, খেজুর, নারকেলসহ তিন শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ পোড়ানো হচ্ছে প্রতিদিন। অথচ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭-এর ৭ ধারা অনুযায়ী কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রথমবার সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ১ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও সাজার বিধান রাখা হয়েছে। তৃতীয়বার এ অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে ভাটার নিবন্ধন বাতিল ও ইটভাটা বাজেয়াপ্ত করারও বিধান রাখা হয়েছে। কাগজে-কলমে এসব আইন বাস্তবায়নে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ নেই!

এদিকে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-তে বলা হয়েছে। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, হাট-বাজার এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর এবং বন, অভয়ারণ্য, বাগান, জলাভূমি ও কৃষি জমিতে ইট ভাটা স্থাপন করা যাবে না। তবে আইনের তোয়াক্কা না করেই শ্যামনগর অধিকাংশ ইট ভাটা স্থাপন করা হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ফসলি জমিতে। শেষের ভাটাটির লাইসেন্স এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রও নবায়ন নেই।

এই ইট ভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ ছাড়াও স্থানীয়রা নানা ধরনের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। ভূরুলিয়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষেতের পাশে ইটভাটা গড়ে ওঠায় আগের তুলনায় উৎপাদন কমে গেছে। সরকার ফসলি জমির ওপর ইট ভাটা স্থাপন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক বছরের মধ্যে এসব জমির উৎপাদন শূন্যে নেমে আসবে।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের মধ্যে শ্বসতন্ত্রের রোগব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে অসুস্থতা বেড়েছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যদি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়, তাহলে এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রংকাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। ফলে এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

স্থানীয় পরিবেশের ওপর ইট ভাটার প্রভাব নিয়ে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে পরিবেশ আন্দোলন ও স্বেচ্ছাসেবক আনিছুর রহমান বলেন, আমরা দেখেছি প্রতিটি ভাটায় কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে সয়াবিন তেলের ক্যাট ও কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। কৃষি জমি এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও গড়ে ওঠা এসব ভাটায় চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতে ফসলসহ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এরকম চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এই এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশের বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাবে।

ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী ব্রিকস’র সত্ত্বাধিকারী বলেন, চাহিদার তুলনায় কয়লার সরবরাহ কম। দামও বেশি। তাই কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালে তাদের লভ্যাংশ কমে যায়। ফলে লাভ বাড়াতেই তারা কাঠ এবং সয়াবিন তেলের ক্যাট পুড়িয়ে থাকেন।

হাজী ব্রিকস এর ম্যানেজার মুনছুর আলী কাছে সয়াবিন তেলের ক্যাট পোড়ানোর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব জায়গায় ব্যাবহার করছে তাই আমরা পোড়াচ্ছি। ট্যাক্স দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রসেসিং চলছে দ্রুত দিয়ে দেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের জনবল খুবই কম থাকার কারণে আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারিনি। আমরা খুব দ্রুত ওদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সংবাদ টি শেয়ার করে সহযোগীতা করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Design & Developed by REHOST BD